বাবু জানাল, তুমি একটু কেবল বসতে দিও কাছে, গানটা ওর আর তনুশ্রী , দুজনেরই খুব প্রিয়। গানটি হেমন্ত মুখোপাধ্য়য় গেয়েছেন। আমি অবশ্য় গানটা শুনিনি।
এই গানটা থেকে মনে হয় নাকি, যে ভগবান ওনার খুব-ই কাছের, ওঠাবসা। ওনার এই উপলদ্ধি বহু গানে প্রকাশ পেয়েছে। বেদ নিসৃত বাণী ওনাকে যে ভাবে আনুপ্রাণিত করেছিল তা অনুধাবন করলে আমরা এক কবি নয়, এক ৠষি, এক যোগী কে পাব। এক মহাপুরুষ।
এই ভাবের অনুরূপ বেদের ব্য়াখ্য়া ওনার লেখাতেই পাই। উদ্ধৃত করলাম।
কিনতু, সংসারকেও ত পাওয়া যায় না। সংসার তো মায়ামৃগের মতো আমাদের কেবলই এগিয়ে নিয়ে দৌড় করায়্, শেষ ধরা তো দেয় না । কেবলই খাটিয়ে মারে, ছুটি দেয় না; ছুটি যদি দেয় ত একেবারে বরখাস্ত করে। গাড়ির গাড়োয়ানের সঙ্গে ঘোড়ার যে সন্মন্ধ, তার সঙ্গে আমাদের সেই সন্মন্ধ । অর্থাত সে কেবলি আমাদের চালাবে, খাওয়াবে সেও চালাবার জন্যে। যখন না চলব তখন খাওবেও না, ভাগাড়ে ফেলে দেবে। অথচ এই চালাবার ফল ঘোড়া পায় না। ঘোড়া স্পষ্ট জানেও না সে ফল কে পাচ্ছে। তবু দিনরাত কেবলই চলছি কেন ? অগ্নিময় ক্ষুধার চাবুক পড়ছে, কোথাও স্থির থাকতে দিচ্ছে না। এর অর্থ কি ?
ব্রহ্মও কি সেই সংসারের মতো ? তাঁকেও কি কোনোখানেই পাওয়া যাবে না ? তিনিও কি আমাদের অনন্তকালই চালাবেন ? তা নয়, ব্রহ্মকেই পাওয়া যায়্, সংসারকে পাওয়া যায় না। সংসারের মধ্যে পাওয়ার তত্ত নেই, সংসারের তত্তই হচ্ছে সরে যাওয়া। পাওয়ার তত্ত কেবল ব্রহ্মাতেই আছে। কেননা, তিনি হচ্ছেন সত্য।আমাদের অন্তরাত্মার মধ্যে পরমাত্মাকে পাওয়া পরিসমাপ্ত হয়ে আছে। আমাদের মধ্যেই একটি নিত্যধাম আছে। তাই উপনিষৎ বলছেন
सत्वंज्ञानमनन्तं ब्रम्ह
यो वेद निहितं गुहायां परमे व्योमन
सोहअश्नुते सर्वान कामान
सह व्रम्हणा विपश्चिता ।
সকলের চেয়ে শ্রেষ্ঠ ব্যোম যে পরম ব্যোম, যে চিদাকাশ, অন্তরাকাশ, সেইখানে আত্মার মধ্যে যিনি সত্য জ্ঞান ও অনন্ত-স্বরূপ পরমব্রহ্মকে গভীরভাবে অবস্থিত জানেন তাঁর সমস্ত বাসনা পুর্ণ হয়।
পরমাত্মা আমাদের আত্মাকে বরণ করে নিয়েছেন; তাঁর সঙ্গে এর পরিণয় একেবারে সমাধা হয়ে গেছে, কেননা তিনি একে স্বয়ং বরণ করেছেন্। তাই ত ঋষি কবি বলেছেন -
एषास्य परमा गतिः
एषास्य परमा सम्पत्
एषोऽस्य परमोलोकः
एषोऽस्य परम आनन्दः।
এষ মানে ইনি- এই সামনেই যিনি, এই কাছেই যিনি আছেন্। অস্য মানে ইহার্, ইনই হচ্ছেন ইহার গতি। এতই কাছে যে তাঁকে ইনি বললেই হয় - এই যে ইনি বলা ছাড়া তাঁর আর কোনো পরিচয় দেবার প্রয়োজন হয় না। ইনি যে কে এবং ইহার যে কাহার সে আর বলাই হল না। ইনই হচ্ছেন ইহার পরমগতি। আমরা যে চলি অমাদের চালায় কে ? অমরা মনে করি, টাকা আমাদের চালায়, খ্যাতি আমাদের চালায়্, মানুষ আমাদের চালায় - যিনি পার হয়েছেন তিনি বলেন, ইনই ইহার গতি, এঁর টানেই এ চলেছে।
যে এই কথাটা ভাল করে বোঝে তার আর কেনো ভাবনা থাকে না। তখন সংসারকে তার স্বামীর সংসার বলে জানে, সংসার আর তাকে পীড়া দিতে পারে না, সংসারে আর তার ক্লান্তি নেই- সংসারে তার প্রেম। তখন সে জানে, যিনি "सत्यं ज्ञानमनन्तं व्रम्ह" হয়ে অন্তরাত্মাকে চিরদিনের মতো গ্রহন করে আছেন, সংসারে তাঁরই "आनन्दरूपममृतं विभाति "- সংসারে তাঁরই প্রেমের লীলা। এইখানেই নিত্যের সঙ্গে অনিত্যের চিরযোগ- আনন্দের , অমৃতের যোগ।
এই পরমাগতির কথা স্মরণ করেই উপনিষৎ বলেছেন -" कोहऽवान्यात् कः प्राण्यात् यदेष आकाश आनन्दो न स्यात् "- কেই বা কোনো প্রকারের কিছুমাত্র চেষ্টা করত যদি আকাশ পরিপুর্ণ করে সেই আনন্দ না থাকতেন। সেই আনন্দই বিশ্বকে অনন্ত গতি দান করে রয়েছেন।
এই গানটা থেকে মনে হয় নাকি, যে ভগবান ওনার খুব-ই কাছের, ওঠাবসা। ওনার এই উপলদ্ধি বহু গানে প্রকাশ পেয়েছে। বেদ নিসৃত বাণী ওনাকে যে ভাবে আনুপ্রাণিত করেছিল তা অনুধাবন করলে আমরা এক কবি নয়, এক ৠষি, এক যোগী কে পাব। এক মহাপুরুষ।
এই ভাবের অনুরূপ বেদের ব্য়াখ্য়া ওনার লেখাতেই পাই। উদ্ধৃত করলাম।
কিনতু, সংসারকেও ত পাওয়া যায় না। সংসার তো মায়ামৃগের মতো আমাদের কেবলই এগিয়ে নিয়ে দৌড় করায়্, শেষ ধরা তো দেয় না । কেবলই খাটিয়ে মারে, ছুটি দেয় না; ছুটি যদি দেয় ত একেবারে বরখাস্ত করে। গাড়ির গাড়োয়ানের সঙ্গে ঘোড়ার যে সন্মন্ধ, তার সঙ্গে আমাদের সেই সন্মন্ধ । অর্থাত সে কেবলি আমাদের চালাবে, খাওয়াবে সেও চালাবার জন্যে। যখন না চলব তখন খাওবেও না, ভাগাড়ে ফেলে দেবে। অথচ এই চালাবার ফল ঘোড়া পায় না। ঘোড়া স্পষ্ট জানেও না সে ফল কে পাচ্ছে। তবু দিনরাত কেবলই চলছি কেন ? অগ্নিময় ক্ষুধার চাবুক পড়ছে, কোথাও স্থির থাকতে দিচ্ছে না। এর অর্থ কি ?
ব্রহ্মও কি সেই সংসারের মতো ? তাঁকেও কি কোনোখানেই পাওয়া যাবে না ? তিনিও কি আমাদের অনন্তকালই চালাবেন ? তা নয়, ব্রহ্মকেই পাওয়া যায়্, সংসারকে পাওয়া যায় না। সংসারের মধ্যে পাওয়ার তত্ত নেই, সংসারের তত্তই হচ্ছে সরে যাওয়া। পাওয়ার তত্ত কেবল ব্রহ্মাতেই আছে। কেননা, তিনি হচ্ছেন সত্য।আমাদের অন্তরাত্মার মধ্যে পরমাত্মাকে পাওয়া পরিসমাপ্ত হয়ে আছে। আমাদের মধ্যেই একটি নিত্যধাম আছে। তাই উপনিষৎ বলছেন
सत्वंज्ञानमनन्तं ब्रम्ह
यो वेद निहितं गुहायां परमे व्योमन
सोहअश्नुते सर्वान कामान
सह व्रम्हणा विपश्चिता ।
সকলের চেয়ে শ্রেষ্ঠ ব্যোম যে পরম ব্যোম, যে চিদাকাশ, অন্তরাকাশ, সেইখানে আত্মার মধ্যে যিনি সত্য জ্ঞান ও অনন্ত-স্বরূপ পরমব্রহ্মকে গভীরভাবে অবস্থিত জানেন তাঁর সমস্ত বাসনা পুর্ণ হয়।
পরমাত্মা আমাদের আত্মাকে বরণ করে নিয়েছেন; তাঁর সঙ্গে এর পরিণয় একেবারে সমাধা হয়ে গেছে, কেননা তিনি একে স্বয়ং বরণ করেছেন্। তাই ত ঋষি কবি বলেছেন -
एषास्य परमा गतिः
एषास्य परमा सम्पत्
एषोऽस्य परमोलोकः
एषोऽस्य परम आनन्दः।
এষ মানে ইনি- এই সামনেই যিনি, এই কাছেই যিনি আছেন্। অস্য মানে ইহার্, ইনই হচ্ছেন ইহার গতি। এতই কাছে যে তাঁকে ইনি বললেই হয় - এই যে ইনি বলা ছাড়া তাঁর আর কোনো পরিচয় দেবার প্রয়োজন হয় না। ইনি যে কে এবং ইহার যে কাহার সে আর বলাই হল না। ইনই হচ্ছেন ইহার পরমগতি। আমরা যে চলি অমাদের চালায় কে ? অমরা মনে করি, টাকা আমাদের চালায়, খ্যাতি আমাদের চালায়্, মানুষ আমাদের চালায় - যিনি পার হয়েছেন তিনি বলেন, ইনই ইহার গতি, এঁর টানেই এ চলেছে।
যে এই কথাটা ভাল করে বোঝে তার আর কেনো ভাবনা থাকে না। তখন সংসারকে তার স্বামীর সংসার বলে জানে, সংসার আর তাকে পীড়া দিতে পারে না, সংসারে আর তার ক্লান্তি নেই- সংসারে তার প্রেম। তখন সে জানে, যিনি "सत्यं ज्ञानमनन्तं व्रम्ह" হয়ে অন্তরাত্মাকে চিরদিনের মতো গ্রহন করে আছেন, সংসারে তাঁরই "आनन्दरूपममृतं विभाति "- সংসারে তাঁরই প্রেমের লীলা। এইখানেই নিত্যের সঙ্গে অনিত্যের চিরযোগ- আনন্দের , অমৃতের যোগ।
এই পরমাগতির কথা স্মরণ করেই উপনিষৎ বলেছেন -" कोहऽवान्यात् कः प्राण्यात् यदेष आकाश आनन्दो न स्यात् "- কেই বা কোনো প্রকারের কিছুমাত্র চেষ্টা করত যদি আকাশ পরিপুর্ণ করে সেই আনন্দ না থাকতেন। সেই আনন্দই বিশ্বকে অনন্ত গতি দান করে রয়েছেন।
কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন