অজস্র কর্মধারা বয়ে চলেছে পলে পলে, অবিরাম। শ্রান্ত ক্লান্ত মানুষ, বিশ্রাম খোঁজে - আমোদে প্রমোদে, বিলাসে, ভ্রমনে, উৎসবে। "অনেক সময়েই শেষে দুঃখ পেতে হয়। পরদিনের ছড়ানো উচ্ছিষ্ট, গলা বাতি আর শুকনো মালার দিকে তাকিয়ে মন উদাস হয়ে যায়, তখন আর রাজকীয় ঔদার্য্য় থাকে না।হিসাবের কথাটা মনে করে মন ক্লিষ্ট হয়ে ওঠে।
মনীষীরা বলেছেন, কাজ আমাদের ক্লান্ত করে কারণ কাজকে আমরা চাহিদা মেটাবার যন্ত্র বলেই জানি। কাজের সঙ্গে আমাদের দেওয়া নেওয়ার সম্পর্ক। কাজ করেই প্রত্য়াশায় থাকি। তাই গীতা বলেছেন,
कर्मणि एव अधिकारः ते मा फलेषु कदाचन।
मा कर्मफलहेतुः भुः मा ते सञ्गः अस्तु अकर्मणि॥ (गीता, सांख्ययोग, ४७)
বহুশ্রুত, বহুকথিত এই বাক্য়াংশ,"মা ফলেষু কদাচন"। বহু আলোচিতও বটে। এই মহৎ আদর্শকে আমরা যে শুধু অবহেলা করেছি তাই নয় - অশ্রদ্ধা করেছি, তাচ্ছিল্য় করেছি, উপহাস করতেও পিছপা হই নি। তাই আমাদের এই দুরবস্থা। শরীর অবসন্ন, মন অশান্ত, হৃদয় অতৃপ্ত।
আমরা সবাই যদি যে যার কাজে উৎসাহ পেতাম তবে এই ছবি অন্য়রকম হত। আমরাও জানি, পড়ুয়ারা, পড়বার সময় যদি বুঝবার বা জানবার চেষ্টায় ব্রতী হয়, পড়ে আনন্দ পায়। আর যদি কম পরিশ্রমে বাজী মাত করতে সচেষ্ট হয় - তখনই পড়াটা বোঝা মনে হয়, ক্লান্তি আনে। আর প্রথম প্রয়াসই যে বেশী ফলপ্রসূ, সে তো বলারই অপেক্ষা রাখে না। আর 'ফলে' তাদের অধিকার কোথায় ? সে তো পরীক্ষকের হেফাজতে। তারা কি ভাল পড়াশুনো ব্য়তিত আর কোনও বৈধ উপায়ে ফলকে নিয়ন্ত্রন করতে পারে ? তাই গীতা বলেছেন, কাজেই শুধু তোমার আধিকার, ফলে নয়। এ কথা সর্বকাজে সর্বকালে সত্য়ি।
कर्मफलहेतुः - কর্মফলের কারণ , मा भुः - হইও না
কর্মফল প্রাপ্তির হেতু হইও না। অর্থাৎ কর্ম সকাম ভাবে করিও না।
अकर्मणि - কর্মত্য়াগে, ते सञ्गः- তোমার প্রবৃত্তি, मा अस्तु - না হউক
আবার কর্মত্য়াগেও তোমার প্রবৃত্তি না হউক/
"কর্ম তখনই শ্রম হয় যখন মূল আনন্দ থেকে সে বিচ্যুত হয়। অমরা প্রিয় বন্ধুর যে কাজ করি সে কাজ অামাদের আনন্দ দেয়, আমাদের দাসত্বে বন্ধ করে না। বন্ধুর বন্ধুত্বটুকু যদি অগোচর থাকে, যদি কেবল তার কাজটুকুই চখে পড়ে, তখন সেই বিনা বেতনের প্রাণপন কাজকে তার প্রতি একটা ভয়ংকর অত্য়াচার বলে আমাদের কাছে প্রতিভাত হবে।"
কিন্তু দৈনন্দিন জীবনে সব কাজ তো বন্ধুর কাজ নয়।মনিষীরা তাই বলেন সব কাজই ভগবানের কাজ, ব্রহ্মের সৃষ্টি। সেই দৃষ্টিতে দেখলে সব কাজই ভগবানকে সমর্পন।নিষ্ঠার সঙ্গে, শ্রদ্ধার সঙ্গে, সমর্পনের মনোভাব নিয়ে কোনো কাজ করলে, তাতে স্বয়ং ভগবান খুশি হন, মানুষ তো কোন ছাড় !
कर्म ब्रह्मोद्भवं विद्धि ब्रह्माक्षरसमुद्भवम् ।
तस्मात सर्वगतं ब्रह्म नित्यं यज्ञे प्रतिष्ठितम् ॥ (गीता, कर्मयोग, १५)
সমস্ত কাজে স্বয়ং ব্রহ্ম উপস্থিত থাকেন, উপরিউক্ত শ্লোকে এই কথাই বলা হল। সেজন্য কোনো কাজকে অপমান করা, অবমাননা করা, স্বয়ং ভগবানের অপমান ।
গীতাতে বারবার কর্মের সঙ্গে অনাসক্ত, মুক্তসঙ্গ, অসঙ্গ, গতসঙ্গ, এই বিশেষন গুলি ব্য়বহার করা হয়েছে। অর্থাত কাজের সঙ্গে নিজেকে জড়িও না। "আমি করলাম" এই ভাব যেন না থাকে। এই ভাবে কাজের ওপর নিজের কতৃত্ব থাকে না।
ঘোড়া গাড়ির সঙ্গে লাগামে বদ্ধ হয়ে গাড়ি চালায় - ঘোড়া কি বলতে পারে গাড়িটা অমার ? বস্তুত চাকার সঙ্গে তার তফাত কি ? যে সারথি মুক্ত হয়ে গাড়ি চালায় - গাড়ির ওপর কতৃত্ব তারই। যদি কর্তা হতে চাই তবে মুক্ত হতে হবে। সেজন্য় গীতা সেই যোগকে কর্মযোগ বলছেন, যে যোগে আমরাও অনাসক্ত হয়ে কর্ম করি। অনাসক্ত হয়ে কর্ম করলেই কর্মের উপর আমার পূর্ণ অধিকার জন্মে,নইলে কর্মের সঙ্গে জড়ীভূত হয়ে আমরা কর্মের অঙ্গীভূত হয়ে পড়ি, কর্মী হই নে।
মনিষীরা আরও বলেছেন, অনাসক্ত হয়ে কাজ করলে কাজে ক্লান্তি আসে না। কাজই বিশ্রাম । কর্মকেই তাঁরা অকর্ম দেখেন ( বিশ্রাম বা বিরতি ), আবার অকর্মকেই কর্ম দেখেন ।
कर्मण्यकर्म यः पश्येदकर्मणि च कर्म यः।
स बुद्धिमान मनुष्येसु स युक्तः कृत्स्नकर्मकृत् ॥ (गीता,ज्ञानयोग, १८)
He who finds in the midst of the incessant activity the greatest rest, in the greatest rest intense activity, he has become a yogi.
স্বামী বিবেকানন্দ লিখেছেন "
কিন্তু আসক্তিশূণ্য হওয়া যে বড় কঠিন। কারণ এটা আমাদের স্বভাব বিরুদ্ধ। আমাদের আসক্তি, এই ভাললাগা- মন্দলাগা, সবই আমাদের প্রকৃতি এবং গুণগত। গীতায় শ্রীকৃষ্ণ বলছেন, জ্ঞানি ব্য়ক্তিও স্বীয় প্রকৃতির অনুরূপ কার্য করেন, অজ্ঞের কি কথা ? প্রাণীগন স্ব স্ব প্রকৃতি অনুসরণ করে, সুতরাং আমার বা অন্যের শাষণ বা নিষেধে কি ফল হইবে ? সকল ইন্দ্রিয়েরৈ অনুকূল বা প্রতিকূল বিষয়ভেদে যথাক্রমে অসক্তি ও বিদ্বেষ অবশ্যম্ভাবি। (গীতা, কর্মযোগ, ৩৩,৩৪)
এর থেকে বোঝা যাচ্ছে যে আমরা কর্ম করে যাই অামাদের স্ব স্ব বিচার অনুযায়ী , অাসক্তি ও বিদ্বেষ অনুসারে, যা অবশ্যই সর্বোপযোগী নয়। তাই নিজের অজান্তেই ভুলের পাহাড় গড়ি। নিজের অদৃষ্ট নিজেই গড়ি। অর্থাৎ ভূত, ভবিষ্যত সব-ই আমার বর্তমান কাজের ভিত্তি , আমার- ই তৈরি। তাই গীতা বলেছেন, गहणा कर्मणो गतिः কর্মের স্বরূপ অত্যন্ত দুর্জ্ঞেয়।
- অদৃষ্টেরে শুধালাম চিরদিন পিছে
অমোঘ নিষ্ঠুর বলে কে মোরে ঠেলিছে ?
সে কহিল, ফিরে দেখ। দেখিলাম আমি
সন্মুখে ঠেলিছে মোরে পশ্চাতের আমি।
তবে কর্মের শুরু কোথায় ? বিবেকানন্দ বলেন যে আমরা সকলেই Impressions of past life নিয়ে আসি-যাকে আমরা সংস্কার বলি। ভাল মন্দয় মেশানো এই সংস্কার নিয়েই শুরু হয় যাত্রা Iপ্রথমে ভাল কাজ ভাল চিন্তা দিয়ে bad impressions মুছে দিতে হবে Iবিবেকানন্দের ভাষায় Bad tendencies are to be countered by the good ones, and the bad impressions on the mind should be removed by the fresh waves of good ones, until all that is evil disappears or is seduced or held in control....By continuous reflex of good thoughts, good impressions moving over the surface of the mind, the tendency of doing good becomes strong and as the result we feel to control "Indriyas"( the sense organs and nerve centres). Thus alone character is built.
আর সমস্ত কাজই করতে হবে ত্যাগের মনোভাব নিয়ে। ত্য়াগই আমাদের পূর্নতা দেয়। যা দিতে পারিনা তা অাখেরে নষ্ট হয়। তন্নষ্টং যৎ ন দীয়তে।
গন্ধ চলে যায়, হায়, বন্ধ নাহি থাকে;
ফুল তারে মাথা নাড়ি ফিরে ফিরে ডাকে।
বায়ু বলে," যাহা গেল সেই গন্ধ তব,
যেটুকু না দিবে তারে গন্ধ নাহি কব।
সতী গৃহিণী সংসারের সমস্ত ভোগের অংশ পরিত্যাগ করেন অথচ সংসারের সমস্ত ভার অশ্রান্ত যত্নে বহন করেন কারণ কর্মকে তিনি স্বার্থসাধন রূপে জানেন না, আনন্দসাধন রূপেই জানেন - আমরাও তেমনি কর্মের আসক্তি দূর করে, কর্মের ফলাকাঙ্খা বিসর্জন করে, কর্মকে বিশুদ্ধ অানন্দময় করতে পারব... নচেত কর্ম নাগপাশে বাঁধবে এবং ঈর্ষাদ্বেষ লোভক্ষোভের বিষনিঃশ্বাসে জর্জরিত করবে।
স্বামী বিবেকানন্দ একই কথা বলেন we are like caterpillars which takes thread out of its own body and of that makes the cocoon and behold he is caught. By his own work he imprisons himself. That is what we are doing. The moment I say "me", the thread makes one turn. " I and mine" another turn and so it goes.
কবির কলমে:
বন্দী ওরে কে গড়েছে বজ্রবাঁধন খানি?
অাপনি আমি গড়েছিলেম
বহু যতন মানি
ভেবেছিলেম অমার প্রতাপ
জগত করে গ্রাস
আমি রব একলা স্বাধীন
সবাই হবে দাস
গড়তেছিলেম রজনীদিন
লোহার শিকল খানা
কত আগুন কত আঘাত
নাইকো তার ঠিকানা
গড়া যখন শেষ হয়েছে
কঠিন সুকঠোর
দেখি আমায় বন্দী করে
আমারি এই ডোর।
যখন নিরাসক্ত হয়ে, ফলাকাঙখা ত্যাগ করে কাজ করা আমাদের অসাধ্য় মনে হয়, তখন নাগপাশ তো বাঁধবেই। তবে উপায় ?
স্বামী বিবেকানন্দ বলেন:
If you cannot do anything, not a single good work, then take refuge in the Lord. The Lord resides within the heart of the being, making them turn upon His wheel. Do thou with all thy heart and soul and take refuge in Him.
मयि सर्वाणि कर्माणि संन्यस्याध्यात्मचेतसा
निराशीनिर्ममो भुत्वा युध्यस्व विगतज्वरः ॥ ( गीता, कर्मयोग,३०)
তাঁর দিকে চাইলে কর্মের বল বাড়ে, অথচ উগ্রতা চলে যায়; চেষ্টার চেষ্টারূপ আর দেখতে পাই নে, তার শান্তি মূর্তি ই ব্য়ক্ত হয়; কাজ চলতে থাকে অথচ স্তব্ধতা আসে ভরা জোয়ারের মতো সমস্ত থমথম করতে থাকে। ডাকাডাকি হাঁকাহাঁকি ঘোষোণা রটনা কিছুমাত্র থাকে না।শক্তি তখন আপনাকে আপনি আড়াল করে দিয়ে সুন্দর হয়ে ওঠে - যেমন সুন্দর আজকের নক্ষত্রমন্ডলী। তার প্রচন্ড তেজ, প্রবল গতি, তার ভয়ঙ্কর উদ্য়ম, কী পরিপূর্ন শান্তির ছবি বিস্তার করে কী কমনীয় হাসি ই হাসছে! আমরাও আমাদের কর্মের আসনে পরমশক্তির সেই শান্তিময় মহাসুন্দররূপ দেখতে উদ্ধত চেষ্টাকে প্রশান্ত করব, কর্মের উদগ্র আক্ষেপকে সৌন্দ্য়র্যে মন্ডিত করে অাচ্ছন্ন করে দেব। আমাদের কর্ম - মধু দৗঃ, মধু নক্তম, মধুমৎ পার্থিব রজঃ, এই সমস্তের সঙ্গে মিলে মধুময় হয়ে উঠবে।
মনীষীরা বলেছেন, কাজ আমাদের ক্লান্ত করে কারণ কাজকে আমরা চাহিদা মেটাবার যন্ত্র বলেই জানি। কাজের সঙ্গে আমাদের দেওয়া নেওয়ার সম্পর্ক। কাজ করেই প্রত্য়াশায় থাকি। তাই গীতা বলেছেন,
कर्मणि एव अधिकारः ते मा फलेषु कदाचन।
मा कर्मफलहेतुः भुः मा ते सञ्गः अस्तु अकर्मणि॥ (गीता, सांख्ययोग, ४७)
বহুশ্রুত, বহুকথিত এই বাক্য়াংশ,"মা ফলেষু কদাচন"। বহু আলোচিতও বটে। এই মহৎ আদর্শকে আমরা যে শুধু অবহেলা করেছি তাই নয় - অশ্রদ্ধা করেছি, তাচ্ছিল্য় করেছি, উপহাস করতেও পিছপা হই নি। তাই আমাদের এই দুরবস্থা। শরীর অবসন্ন, মন অশান্ত, হৃদয় অতৃপ্ত।
আমরা সবাই যদি যে যার কাজে উৎসাহ পেতাম তবে এই ছবি অন্য়রকম হত। আমরাও জানি, পড়ুয়ারা, পড়বার সময় যদি বুঝবার বা জানবার চেষ্টায় ব্রতী হয়, পড়ে আনন্দ পায়। আর যদি কম পরিশ্রমে বাজী মাত করতে সচেষ্ট হয় - তখনই পড়াটা বোঝা মনে হয়, ক্লান্তি আনে। আর প্রথম প্রয়াসই যে বেশী ফলপ্রসূ, সে তো বলারই অপেক্ষা রাখে না। আর 'ফলে' তাদের অধিকার কোথায় ? সে তো পরীক্ষকের হেফাজতে। তারা কি ভাল পড়াশুনো ব্য়তিত আর কোনও বৈধ উপায়ে ফলকে নিয়ন্ত্রন করতে পারে ? তাই গীতা বলেছেন, কাজেই শুধু তোমার আধিকার, ফলে নয়। এ কথা সর্বকাজে সর্বকালে সত্য়ি।
कर्मफलहेतुः - কর্মফলের কারণ , मा भुः - হইও না
কর্মফল প্রাপ্তির হেতু হইও না। অর্থাৎ কর্ম সকাম ভাবে করিও না।
अकर्मणि - কর্মত্য়াগে, ते सञ्गः- তোমার প্রবৃত্তি, मा अस्तु - না হউক
আবার কর্মত্য়াগেও তোমার প্রবৃত্তি না হউক/
"কর্ম তখনই শ্রম হয় যখন মূল আনন্দ থেকে সে বিচ্যুত হয়। অমরা প্রিয় বন্ধুর যে কাজ করি সে কাজ অামাদের আনন্দ দেয়, আমাদের দাসত্বে বন্ধ করে না। বন্ধুর বন্ধুত্বটুকু যদি অগোচর থাকে, যদি কেবল তার কাজটুকুই চখে পড়ে, তখন সেই বিনা বেতনের প্রাণপন কাজকে তার প্রতি একটা ভয়ংকর অত্য়াচার বলে আমাদের কাছে প্রতিভাত হবে।"
কিন্তু দৈনন্দিন জীবনে সব কাজ তো বন্ধুর কাজ নয়।মনিষীরা তাই বলেন সব কাজই ভগবানের কাজ, ব্রহ্মের সৃষ্টি। সেই দৃষ্টিতে দেখলে সব কাজই ভগবানকে সমর্পন।নিষ্ঠার সঙ্গে, শ্রদ্ধার সঙ্গে, সমর্পনের মনোভাব নিয়ে কোনো কাজ করলে, তাতে স্বয়ং ভগবান খুশি হন, মানুষ তো কোন ছাড় !
कर्म ब्रह्मोद्भवं विद्धि ब्रह्माक्षरसमुद्भवम् ।
तस्मात सर्वगतं ब्रह्म नित्यं यज्ञे प्रतिष्ठितम् ॥ (गीता, कर्मयोग, १५)
সমস্ত কাজে স্বয়ং ব্রহ্ম উপস্থিত থাকেন, উপরিউক্ত শ্লোকে এই কথাই বলা হল। সেজন্য কোনো কাজকে অপমান করা, অবমাননা করা, স্বয়ং ভগবানের অপমান ।
গীতাতে বারবার কর্মের সঙ্গে অনাসক্ত, মুক্তসঙ্গ, অসঙ্গ, গতসঙ্গ, এই বিশেষন গুলি ব্য়বহার করা হয়েছে। অর্থাত কাজের সঙ্গে নিজেকে জড়িও না। "আমি করলাম" এই ভাব যেন না থাকে। এই ভাবে কাজের ওপর নিজের কতৃত্ব থাকে না।
ঘোড়া গাড়ির সঙ্গে লাগামে বদ্ধ হয়ে গাড়ি চালায় - ঘোড়া কি বলতে পারে গাড়িটা অমার ? বস্তুত চাকার সঙ্গে তার তফাত কি ? যে সারথি মুক্ত হয়ে গাড়ি চালায় - গাড়ির ওপর কতৃত্ব তারই। যদি কর্তা হতে চাই তবে মুক্ত হতে হবে। সেজন্য় গীতা সেই যোগকে কর্মযোগ বলছেন, যে যোগে আমরাও অনাসক্ত হয়ে কর্ম করি। অনাসক্ত হয়ে কর্ম করলেই কর্মের উপর আমার পূর্ণ অধিকার জন্মে,নইলে কর্মের সঙ্গে জড়ীভূত হয়ে আমরা কর্মের অঙ্গীভূত হয়ে পড়ি, কর্মী হই নে।
মনিষীরা আরও বলেছেন, অনাসক্ত হয়ে কাজ করলে কাজে ক্লান্তি আসে না। কাজই বিশ্রাম । কর্মকেই তাঁরা অকর্ম দেখেন ( বিশ্রাম বা বিরতি ), আবার অকর্মকেই কর্ম দেখেন ।
कर्मण्यकर्म यः पश्येदकर्मणि च कर्म यः।
स बुद्धिमान मनुष्येसु स युक्तः कृत्स्नकर्मकृत् ॥ (गीता,ज्ञानयोग, १८)
He who finds in the midst of the incessant activity the greatest rest, in the greatest rest intense activity, he has become a yogi.
স্বামী বিবেকানন্দ লিখেছেন "
When we come to that
non-attachment, then we can understand the marvellous mystery of the universe,
how intese activity and vibration and at the same time insesest peace and calm.
Then we shall find the secret. He also is a real worker. We do a little work
and break ourselves, why? We become attached to that work If we do not become
attached, side by side with it we have infinite rest.
কিন্তু আসক্তিশূণ্য হওয়া যে বড় কঠিন। কারণ এটা আমাদের স্বভাব বিরুদ্ধ। আমাদের আসক্তি, এই ভাললাগা- মন্দলাগা, সবই আমাদের প্রকৃতি এবং গুণগত। গীতায় শ্রীকৃষ্ণ বলছেন, জ্ঞানি ব্য়ক্তিও স্বীয় প্রকৃতির অনুরূপ কার্য করেন, অজ্ঞের কি কথা ? প্রাণীগন স্ব স্ব প্রকৃতি অনুসরণ করে, সুতরাং আমার বা অন্যের শাষণ বা নিষেধে কি ফল হইবে ? সকল ইন্দ্রিয়েরৈ অনুকূল বা প্রতিকূল বিষয়ভেদে যথাক্রমে অসক্তি ও বিদ্বেষ অবশ্যম্ভাবি। (গীতা, কর্মযোগ, ৩৩,৩৪)
এর থেকে বোঝা যাচ্ছে যে আমরা কর্ম করে যাই অামাদের স্ব স্ব বিচার অনুযায়ী , অাসক্তি ও বিদ্বেষ অনুসারে, যা অবশ্যই সর্বোপযোগী নয়। তাই নিজের অজান্তেই ভুলের পাহাড় গড়ি। নিজের অদৃষ্ট নিজেই গড়ি। অর্থাৎ ভূত, ভবিষ্যত সব-ই আমার বর্তমান কাজের ভিত্তি , আমার- ই তৈরি। তাই গীতা বলেছেন, गहणा कर्मणो गतिः কর্মের স্বরূপ অত্যন্ত দুর্জ্ঞেয়।
- অদৃষ্টেরে শুধালাম চিরদিন পিছে
অমোঘ নিষ্ঠুর বলে কে মোরে ঠেলিছে ?
সে কহিল, ফিরে দেখ। দেখিলাম আমি
সন্মুখে ঠেলিছে মোরে পশ্চাতের আমি।
তবে কর্মের শুরু কোথায় ? বিবেকানন্দ বলেন যে আমরা সকলেই Impressions of past life নিয়ে আসি-যাকে আমরা সংস্কার বলি। ভাল মন্দয় মেশানো এই সংস্কার নিয়েই শুরু হয় যাত্রা Iপ্রথমে ভাল কাজ ভাল চিন্তা দিয়ে bad impressions মুছে দিতে হবে Iবিবেকানন্দের ভাষায় Bad tendencies are to be countered by the good ones, and the bad impressions on the mind should be removed by the fresh waves of good ones, until all that is evil disappears or is seduced or held in control....By continuous reflex of good thoughts, good impressions moving over the surface of the mind, the tendency of doing good becomes strong and as the result we feel to control "Indriyas"( the sense organs and nerve centres). Thus alone character is built.
আর সমস্ত কাজই করতে হবে ত্যাগের মনোভাব নিয়ে। ত্য়াগই আমাদের পূর্নতা দেয়। যা দিতে পারিনা তা অাখেরে নষ্ট হয়। তন্নষ্টং যৎ ন দীয়তে।
গন্ধ চলে যায়, হায়, বন্ধ নাহি থাকে;
ফুল তারে মাথা নাড়ি ফিরে ফিরে ডাকে।
বায়ু বলে," যাহা গেল সেই গন্ধ তব,
যেটুকু না দিবে তারে গন্ধ নাহি কব।
সতী গৃহিণী সংসারের সমস্ত ভোগের অংশ পরিত্যাগ করেন অথচ সংসারের সমস্ত ভার অশ্রান্ত যত্নে বহন করেন কারণ কর্মকে তিনি স্বার্থসাধন রূপে জানেন না, আনন্দসাধন রূপেই জানেন - আমরাও তেমনি কর্মের আসক্তি দূর করে, কর্মের ফলাকাঙ্খা বিসর্জন করে, কর্মকে বিশুদ্ধ অানন্দময় করতে পারব... নচেত কর্ম নাগপাশে বাঁধবে এবং ঈর্ষাদ্বেষ লোভক্ষোভের বিষনিঃশ্বাসে জর্জরিত করবে।
স্বামী বিবেকানন্দ একই কথা বলেন we are like caterpillars which takes thread out of its own body and of that makes the cocoon and behold he is caught. By his own work he imprisons himself. That is what we are doing. The moment I say "me", the thread makes one turn. " I and mine" another turn and so it goes.
কবির কলমে:
বন্দী ওরে কে গড়েছে বজ্রবাঁধন খানি?
অাপনি আমি গড়েছিলেম
বহু যতন মানি
ভেবেছিলেম অমার প্রতাপ
জগত করে গ্রাস
আমি রব একলা স্বাধীন
সবাই হবে দাস
গড়তেছিলেম রজনীদিন
লোহার শিকল খানা
কত আগুন কত আঘাত
নাইকো তার ঠিকানা
গড়া যখন শেষ হয়েছে
কঠিন সুকঠোর
দেখি আমায় বন্দী করে
আমারি এই ডোর।
যখন নিরাসক্ত হয়ে, ফলাকাঙখা ত্যাগ করে কাজ করা আমাদের অসাধ্য় মনে হয়, তখন নাগপাশ তো বাঁধবেই। তবে উপায় ?
স্বামী বিবেকানন্দ বলেন:
If you cannot do anything, not a single good work, then take refuge in the Lord. The Lord resides within the heart of the being, making them turn upon His wheel. Do thou with all thy heart and soul and take refuge in Him.
मयि सर्वाणि कर्माणि संन्यस्याध्यात्मचेतसा
निराशीनिर्ममो भुत्वा युध्यस्व विगतज्वरः ॥ ( गीता, कर्मयोग,३०)
তাঁর দিকে চাইলে কর্মের বল বাড়ে, অথচ উগ্রতা চলে যায়; চেষ্টার চেষ্টারূপ আর দেখতে পাই নে, তার শান্তি মূর্তি ই ব্য়ক্ত হয়; কাজ চলতে থাকে অথচ স্তব্ধতা আসে ভরা জোয়ারের মতো সমস্ত থমথম করতে থাকে। ডাকাডাকি হাঁকাহাঁকি ঘোষোণা রটনা কিছুমাত্র থাকে না।শক্তি তখন আপনাকে আপনি আড়াল করে দিয়ে সুন্দর হয়ে ওঠে - যেমন সুন্দর আজকের নক্ষত্রমন্ডলী। তার প্রচন্ড তেজ, প্রবল গতি, তার ভয়ঙ্কর উদ্য়ম, কী পরিপূর্ন শান্তির ছবি বিস্তার করে কী কমনীয় হাসি ই হাসছে! আমরাও আমাদের কর্মের আসনে পরমশক্তির সেই শান্তিময় মহাসুন্দররূপ দেখতে উদ্ধত চেষ্টাকে প্রশান্ত করব, কর্মের উদগ্র আক্ষেপকে সৌন্দ্য়র্যে মন্ডিত করে অাচ্ছন্ন করে দেব। আমাদের কর্ম - মধু দৗঃ, মধু নক্তম, মধুমৎ পার্থিব রজঃ, এই সমস্তের সঙ্গে মিলে মধুময় হয়ে উঠবে।